ফোনে টাইমার সেট করে পড়াশোনা করা কেন কম কার্যকর হয়

আমরা সবাই চাই ফোকাস ধরে রেখে নিজের পড়া গুলোকে শেষ করতে কিন্তু পড়তে গিয়ে আমাদের আসল বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাশে থাকা স্মার্টফোনটি। ফোকাস ধরে রাখার উপায় গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পোমোডোরো টেকনিক। অনেকেই ফোনে টাইমার সেট করে পড়াশোনা শুরু করেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা হয় না। ফোনে অতিরিক্ত নোটিফিকেশন আসায় ফোনে টাইমার সেট করে পড়াশোনা করা কম কার্যকর হয়। 

পড়াশোনার সময় ফোন ব্যবহার করলে মনোযোগ কেন নষ্ট হয়?

পড়াশোনার সময় ফোন ব্যবহার করলে মনোযোগ নষ্ট হয় কারণ ফোনের নোটিফিকেশন ও শব্দ। আমরা গভীর মনোযোগের সাথে কোন কাজ করতে বসালে ফোন পাশে রেখে দেই। কোন গুরুত্বপূর্ণ কল বা মেসেজের জন্য ফোনকে দূরে রাখি না। যা আমাদের মনোযোগকে নষ্ট করার  প্রথম কারণ। আমরা একটু পর পর ফোন চেক করতে গিয়ে পড়ায় ফোকাস হারিয়ে ফেলি। এছাড়াও পড়তে বসার সময় অনেকেই ফোনে Pomodoro Timer বা Stopwatch অন করে পড়তে বসি। ফোনের ডিসপ্লে সামনে থাকায় বার বার নোটিফিকেশন আসায় আমাদের মনোযোগ সেদিকে চলে যায়। অনেক সময় কারণ ছাড়াই বিভিন্ন কল বা মেসেজ আসায় আমাদের মনোযোগকে ব্যাহত করে। 

ফোনের Timer ব্যবহার করলে সমস্যা কোথায়?

ফোনের টাইমার ব্যবহার করলে অনেক ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় কারণ ফোনে শুধুমাত্র টাইমার নয় , বিভিন্ন অ্যাপ ও গেম থাকে। যা আমাদের মনোযোগকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। 

Timer বন্ধ করতে গিয়ে অন্য অ্যাপ খুলে ফেলা 

মোবাইল ফোনে আমরা টাইমার অন করলে সেটা বন্ধ করার জন্য ফোন হাতে নিই। সেই সময় কোনো মেসেজ , Facebook Notification বা Youtube Notification আসলে আমরা ক্লিক করে বসি Pomodoro Technique এর ৫ মিনিটের ব্রেক ১৫ বা ২০ মিনিটেও শেষ হয় না। 

পড়াশোনায় Pomodoro Timer কিভাবে কাজ করে? 

 Time Management ট্রিক গুলোর মধ্যে একটা হচ্ছে Pomodoro Technique হচ্ছে। পোমোডোরো টেকনিক হচ্ছে সময় ভাগ করে কাজ করা বা পড়াশোনা করার জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একটানা পড়ার বদলে পড়াকে ছোট ছোট সেশনে ভাগ করে নেয়া হয়, যেখানে ২৫ মিনিটের পড়া বা কাজ ও ৫ মিনিটের ব্রেক থাকে। 

পোমোডোরো টেকনিক কি ? 

২৫ মিনিটের কাজ ও ৫ মিনিটের ব্রেক, এই নিয়মকে বলা হয় পোমোডোরো টেকনিক। কেউ ২৫ মিনিটের জায়গায় ৩০ মিনিট , কেউ ৪০ মিনিট , কেউ ৫০ মিনিট ফোকাস সেশন করতে পারেন। এই টেকনিকের মূল উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট সময়ে শুধু ওই একটা কাজেই ডুবে থাকা। 

দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার চেয়ে Focused Study কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন , টানা ৫-৭ ঘন্টা পড়লে সঠিকভাবে পড়া হবে। না , এই ধারণাটি ভুল। ৫-৭ ঘণ্টা টানা বইয়ের সামনে বসে থাকা আর ফোকাস ভাবে ২ ঘণ্টা পড়ার মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। তাই দীর্ঘ সময় পড়ার থেকে অল্প কিন্তু ফোকাস সেশন অনেক সময় বেশি Productive হয়ে থাকে। 

ফোনের Timer এর বিকল্প হিসেবে Pomodoro Flip Timer কেন ব্যবহার করবেন ? 

ফোনের টাইমারে Pomodoro Technique ব্যবহার করা সম্ভব। অনেকে Online Pomodoro Timer ব্যবহার করেন। কিন্তু সমস্যা হয় যখন Pomodoro Timer ইউজ করতে গিয়ে টিকটক বা ফেসবুক অ্যাপ এ ঢুকে যায়। অনেক Online Pomodoro Timer এ অযথা এড দেখানোর ফলেও মনোযোগ নষ্ট হয়। তাই প্রত্যেক স্টুডেন্টের উচিত Gravity Cube Timer বা Pomodoro Flip Timer ইউজ করা। 

Pomodoro Timer BD প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বাজেরে নিয়ে এসেছে Pomodoro Flip Timer যা ঘুরিয়ে দিলেই টাইম সেট হয় যায় অটোমেটিক। 

Frequently Asked Questions (FAQ)

ফোনে Pomodoro Timer ব্যবহার করা কি খারাপ ? 

না। ফোনে Pomodoro Timer ব্যবহার করা খারাপ নয় যদি ফোনের নোটিফিকেশন , কল ও Social Media Destruction নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। 

Pomodoro Timer এবং সাধারণ টাইমারের মধ্যে পার্থক্য কি ?

সাধারণ টাইমারে শুধু সময় দেখা যায়। Pomodoro Flip Timer এ আপনি নিজের ইচ্ছা মতো সময় সেট করতে পারবেন। সময়ের সাথে কাউন্ট ডাউন টাইম কমতে থাকবে, সময় শেষে একটা অ্যালার্ম দিয়ে আপনাকে মনে করিয়ে দেবে ব্রেক নেয়ার জন্য। ফোন দেখার কোনো ঝামেলা নেই , মনোযোগে কাজ করার সেরা টুলস Gravity Cube Pomodoro Timer.

পড়ার সময় ফোন কত দূরে রাখা ভালো ? 

পড়ার সময় বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় ফোন এমন জায়গায় রাখুন, যেনো সহজে ফোন চোখে না পড়ে। চাইলেই সহজে যেনো ফোন হাতে নেয়া না যায় , এমন দূরত্বে ফোন রাখা ভালো। ফোনের পরিবর্তে Pomodoro Timer BD থেকে একটি পোমোডোরো টাইমার নিয়ে টাইম সেট করে ফোকাস সেশনে ডুবে যেতে পারবেন। 

আমরা সবাই চাই নিজেদের কাজ গুলোকে বা পড়া গুলোকে মনোযোগের সাথে শেষ করতে। Mobile Destruction এর কারণে যা হয় না। তাই পড়াশোনার সময় স্মার্টফোন দূরে রাখুন Physical Pomodoro Timer ব্যবহার করুন। এতে পড়াশোনার সময় ফোন ব্যবহার করলে মনোযোগ নষ্ট হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *